• ২০২৬ Jun ১৩, শনিবার, ১৪৩৩ জ্যৈষ্ঠ ৩০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৩ অপরাহ্ন
Logo
  • ২০২৬ Jun ১৩, শনিবার, ১৪৩৩ জ্যৈষ্ঠ ৩০

৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কিনা তদন্ত চলছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি

  • প্রকাশিত ১০:০৮ অপরাহ্ন বুধবার, মে ২৭, ২০২৬
৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কিনা তদন্ত চলছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি)  অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান (প্রশাসন)

 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ঘটনায় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, ছয় শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ আমরা হাসপাতালে এসেছি। ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। দ্রুতই বিস্তারিত তথ্য আপনাদের জানাতে পারব। এতটুকু জেনেছি, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে বাচ্চাগুলো মারা গেছে।

 

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে থাকা ছয় নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাদের এনআইসিইউতে নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তাদের মৃত্যু হয়। 

 

হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, যে ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ১১ জন মা ছয়জন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিলেন। শিশুদের বয়স এক থেকে দুই দিনের মধ্যে। সিজারের পর নিয়মিতভাবেই ওই ওয়ার্ডে মা নবজাতকদের রাখা হয়।

 

তিনি বলেন, ওয়ার্ডটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় অনেক সময় রোগী বা স্বজনেরা অতিরিক্ত ঠাণ্ডার অভিযোগ করে এসি বন্ধ রাখতে বলেন। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

 

ডা. নাহিদা ইয়াসমিনের ভাষ্য, রাত তিনটার পর দুটি শিশু অসুস্থ বোধ করলে তাদের নিউ নেটাল আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, শিশুরা ভালো আছে। পরে তাদের আবার ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

 

তিনি আরও বলেন, ভোর ছয়টার পর দায়িত্বরত নার্স মায়েরা দেখতে পান, শিশুদের অবস্থা আবার খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এরপর ছয় নবজাতককেই নিউ নেটাল আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পর দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি চার শিশুকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদেরও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

 

ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের কান্না আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। এক শিশুর দাদী অভিযোগ করেন, তার নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, শিশুটি আর বেঁচে নেই। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা উচিত ছিল।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার নার্স ছিলেন না। বাচ্চারা সারারাত কান্না করছিল এবং একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

সর্বশেষ